করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত তো?

 

বর্তমানে একটি শব্দ আমাদের জন্য খুব আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আর তা হল করোনা ভাইরাস। এখন প্রশ্ন হল করোনা ভাইরাস কি? এটি কিভাবে আমাদের ক্ষতি করতে পারে? এর উৎপত্তি স্থল ই বা কোথায়?

করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায় নি।ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসটি যে প্যাথোজেন পরিবারের, তার নাম করোনাভাইরাস, যার কারণে এর আগে সার্স ও মার্স ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছিল।

সার্সে আক্রান্তদের ৯% এবং মার্সে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৩৫% মারা গেছেন। 

 

এর উৎপত্তি স্থল কোথায়?

করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্ক আছে চীনের উহায়ের দক্ষিণ সমুদ্রের খাবারের পাইকারি বাজারের সঙ্গে।

যদিও বেশ কিছু সামুদ্রিক প্রাণী করোনাভাইরাস বহন করতে পারে (যেমন বেলুগা তিমি), ওই বাজারটিতে অনেক জীবন্ত প্রাণীও থাকে, যেমন মুরগি, বাদুর, খরগোশ, সাপ- এসব প্রাণী করোনাভাইরাসের উৎস হতে পারে।সনাক্তকরণের পর থেকেই খুব দ্রুত এই রোগটি বিস্তার লাভ করে চলেছে। ভাইরাসটি এমন সময়ে ছড়ানো শুরু করলো যখন চীনা নববর্ষ পালিত হতে যাচ্ছে যে সময়টিতে লাখ লাখ মানুষ বাড়িঘর, আত্মীয় স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধবদের সাথে সাক্ষাতের জন্য ব্যাপক ভ্রমণ করে থাকে। ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দেশটির প্রায় ১১ লক্ষ জনগণ অধ্যুষিত কয়েকটি প্রদেশ একদম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপর ও ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং ইতোমধ্যেই ভাইরাসটি পৃথিবীর কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৩৬০ জনের মতো। এদের বেশিরভাগই চীনে। ( তথ্যসূত্রঃ বি বি সি বাংলা)   

এখন প্রশ্ন হল এই ভাইরাসে বাংলাদেশের ঝুঁকি কতটুকু?

যেহেতু চীন এশিয়া মহাদেশের ই অংশ এবং তাদের সাথে আমাদের খূব ভাল বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান তাই বাংলাদেশের ঝুঁকি এড়িয়ে চলার কোন সুযোগ নেই। ইতিমধ্যেই চীন সারা পৃথিবীর প্রায় ৩০ মিলিয়ন দর্শনার্থীর যাত্রা বাতিল করেছে। যেহেতু রোগ টি মানুষ থেকে মানুষ এ ছড়িয়ে পড়ছে তাই বাংলাদেশ বিমানবন্দর এ ও কড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ব্যবস্থা কি ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য যথেষ্ট নাকি তা বলা মুশকিল।

চলুন জেনে নেই এই রোগের উপসর্গ গুলোঃ

সংক্রমণের প্রথম উপসর্গ হল জ্বর সাথে শুকনা কাশি। সপ্তাহ খানিক পর যোগ হয় শ্বাসকষ্ট এবং এ পর্যায়ে অবশ্যই হাসপাতালে যেতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে  নিম্নোক্ত পরামর্শ প্রদান করছেঃ ( তথ্যসূত্রঃ WHO) 

১। সাবান, পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখুন। 

২। হাঁচি কাশির সময় নাক মুখ টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখুন এবং ব্যবহৃত টিস্যু ডাস্টবিনে ফেলে দিন।

৩। সর্দি- কাশি আছে এমন কারও সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এড়িয়ে চলুন।

৪। ডিম ও মাংস রান্নার সময় অবশ্যই ভাল মত সিদ্ধ করুন। দুধ ভাল মত ফুটিয়ে খান। 

৫। বন্য বা পোষা সকল প্রানীর সাথে অরক্ষিত স্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

যদিও বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কোন খবর এখন ও পাওয়া যায় নি। তবুও আতঙ্কিত না হয়ে এখনি আমাদের সচেতন ও সতর্কত হওয়া খুবই প্রয়োজন।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories