আইবিএস এর ১০ টি উপসর্গ ও প্রতিকার

পেটে গ্যাস, পেট ফুলে থাকা, পেট খারাপ এগুলোর সাথে আমরা সবাই খুব বেশী পরিচিত। আইবিএস হ’ল গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল (জিআই) ট্র্যাক্টের একটি ব্যাধি। সাধারণত কিছু খাবার বা পানীয় খাওয়ার পরে লক্ষণগুলি দেখা দেয় এবং পেট স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার আগে কয়েক দিন এই সমস্যা অবিরত থাকতে পারে।

হঠাৎ পাতলা পায়খানা: ডায়রিয়া হ’ল আইবিএস এর অন্যতম লক্ষণ । যখন ডায়রিয়ার আক্রমণ দেখা দেয় হঠাৎ করেই আক্রান্ত ব্যক্তি পেট খালি করার তাগিদ অনুভব করেন। অস্বস্তির পাশাপাশি এই উপসর্গটি বিব্রতকরও বটে। এছাড়াও, ডায়রিয়ার পর শরীরে অত্যাবশ্যক পুষ্টি এবং তরল ঘাটতি দেখা দেয়, যা অবশ্য পূরণীয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য: ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী উপসর্গ হলেও অবিশ্বাস্য ভাবে সত্যি যে, এ রোগে দুটি উপসর্গ ই দেখা যায়। মাঝে মাঝে রোগী ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ার পর কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে এবং পায়খানা  পরিষ্কার ভাবে হয় না।

পাকস্থলীতে ব্যথ্যা: আই বি এস রোগাক্রান্ত প্রত্যেকেরই পেটে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের অভিজ্ঞতা না হলেও, বিপুল সংখ্যক লোকের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা যায়। ব্যথার তীব্রতা ও স্থায়িত্ব ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয় এবং তীক্ষ্ণ ব্যাথা বা পেটের কোনও অংশে নিস্তেজ ব্যথা হতে পারে। স্ট্রেস এবং নির্দিষ্ট কিছু খাবার খেলে সাধারণত এই উপসর্গগুলো বেড়ে যায়।এই লক্ষণগুলো যদি বাড়তে থাকে, ওজন হ্রাস করে বা ঘুমকে বাধা দেয় তবে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

পেট ফুলে যাওয়া: পেট ফুলে থাকা স্বাস্থ্যজনিত নানাবিধ রোগের লক্ষণ হলেও এটি আই বি এস রোগের লক্ষণগুলির মধ্যে একটি।স্ফীত হওয়ার সঠিক কারণটি এখনও অজানা হলেও এটি আইবিএস আক্রান্ত ব্যক্তির পেটে অতিরিক্ত গ্যাস ফোমের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। উপসর্গগুলি দিনভর পরিবর্তিত হতে পারে তবে প্রায়শই খাবার পরে এবং সন্ধ্যার পর বেশী খারাপ হয়।

পিঠে ব্যাথা: পিঠে ব্যাথা আই বি এসের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে পরিলক্ষিত হয়। যাদের পিঠে ব্যাথার সঠিক কারণ ডায়াগোনসিস করা হয় নি তারা এ জাতীয় পিঠে চাপ দেয়া বা অন্যথায় আঘাত করাকে প্রায়শই অন্য রোগের কারণ ভেবে ভূল করেন। পিঠে ব্যথার আইবিএস এর সাথে সম্পর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা কম তবে এটি যদি অন্যান্য আইবিএস ইস্যুগুলির সাথে আসে তবে এটি আইবিএস এর আরও একটি লক্ষণ হতে পারে।

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: কদাচিৎ, আইবিএস প্রস্রাব বা অন্ত্রের অসংলগ্নতার কারণ হয়। মূত্রথলীতে অতিরিক্ত চাপ এবং পূর্ণতা থেকে প্রস্রাবের অসংলগ্নতা আসতে পারে। ঘন ঘন ডায়রিয়া থেকেও অন্ত্রের অসংলগ্নতা দেখা দিতে পারে। যেহেতু এটি আইবিএসের ক্ষেত্রে খূব কম দেখা যায়, তাই এই লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিদের একজন ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। অন্যান্য বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেও এ ধরণের অনিয়ম হতে পারে।  

শরীরে দুর্গন্ধ: দেহ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস বের হওয়া একটি বিরক্তিকর আইবিএস উপসর্গ। ঐ ব্যক্তিকে এর জন্য প্রায়শই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। সামাজিক অনুষ্ঠানে ঐ ব্যক্তি অস্বস্তিতে পড়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, খাদ্যাভাসে পরিবর্তন এই লক্ষণগুলি হ্রাস করতে পারে। খাদ্যতালিকার কোন কোন খাবার খেলে এ ধরণের সমস্যা হয় তা সনাক্ত করা হলে সহজেই এগুলো এড়িয়ে চলা সম্ভব।

পেটের ভেতর অস্বস্তিকর শব্দ: কিছু নির্দিষ্ট খাবার বা পানীয় অতিরিক্ত গ্যাস, হজম সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সাথে সম্পর্কিত। এই ক্রিয়াকলাপগুলি আইবিএস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণ এবং এটি পাচনতন্ত্রের মধ্যে গ্যাসের কারণে হতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ লক্ষণগুলি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

ক্লান্তি: পূর্বের শারীরিক এবং মানসিক সমস্যাগুলি আপনাকে কর্মবিমূখ করে তূলতে,যার ফলে কর্মক্ষেত্রে বা বাড়িতে শক্তির অভাব হয় এবং এমন ক্রিয়াকলাপগুলির জন্য কাজে উৎসাহের অভাব দেখা দিতে পারে। আইবিএস এর কারণে এমন হয় জেনে অনেকেই আশ্চর্য হতে পারে।

সাধারণ অসুস্থতা বোধ: এমন অনেকগুলি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে যার কারণে কোনও ব্যক্তি অসুস্থ বোধ করতে পারে। তবে সাধারণ ফ্লু এর মত এরোগেও বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে

প্রতিকার: এই অস্বস্তিকর এবং অসুবিধাজনক অবস্থার কারণে কারও মৃত্যুঝুঁকি না থাকলেও আপনার খাদ্যাভাস এবং জীবনযাত্রার ধরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি এ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আপনার এ জাতীয় সমস্যা থাকলে মায়ার এক্সপার্টদের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।