ফেসবুক আসক্তি থেকে বাঁচার উপায়

  • ফেসবুক পর্দা আসক্তির সৃষ্টি করে। 
  • মনোযোগ কমে যাওয়া, সম্পর্কের অবনতি ইত্যাদি নানা অসুবিধার কারণ এই ফেসবুক।
  • নিজে সময় সম্পর্কে সচেতন হওয়া, কাজে ব্যস্ত রাখা, বাস্তব জীবনের দিকে মনোনিবেশ করা ইত্যাদি অভ্যাস এই আসক্তি থেকে মুক্তি দিতে পারে।  

সজল (ছদ্যনাম) দীর্ঘিদিন ধরে ফেসবুক ব্যবহার করতো। কোনো এক কারণে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তার একাউন্টটি বন্ধ করে দেয়। সেই একাউন্টে  তার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে ছিল। তার একাউন্টটি বন্ধ  হওয়ার  পর থেকে সে বিষণ্ণতায় ভোগা শুরু করে। কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারতোনা, কারো সাথে মিশতে পারতোনা। নিজেকে একা একা লাগতো, সব কিছু থেকেও যেন কিছুই নেই।আস্তে আস্তে তার জীবনটাই কেমন জেনো এলোমেলো হয়ে গেলো।

উপরের এই ঘটনাটি একজনের  হলেও এরকমটা কিন্তু এখন অহরহ হচ্ছে। আমরা সবাই কোনো না কোনো কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করি। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক খুবই জনপ্রিয়। সকালে ঘুম  ভাঙার পর থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ফেসবুক যেন আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে গিয়েছে। অনেক কিছু যেমন সহজ হয়ে গিয়েছে আবার আমরা অনেক সমস্যারও সম্মুখীন হচ্ছি। 

কিভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি?

নেতিবাচক চিন্তা বেড়ে যাওয়া: ফেসবুক খোলার পরই বিভিন্ন মানুষের প্রাপ্তি, সাফল্য চোখে পড়ে ।  এটি  দেখতে দেখতে অনেকের  একটা সময় ঈর্ষা কাজ করা শুরু করে, অন্যের সুখ যেন সহ্যই হয় না।

সম্পর্কের অবনতি হওয়া: অনেকেই কাছের মানুষের সাথে তোলা ছবি, ভিডিও বা কি গিফট দিলো সেগুলো ফেসবুকে শেয়ার করেন । এক্ষেত্রে নিজের সম্পর্কগুলোর সাথে একটা তুলনা চলে আসে। “আমাকে তো গিফট দিলো না” “আমাকে কি তাহলে ভালোবাসে না” এই চিন্তা গুলো চলে আসে স্বয়ংক্রিয় ভাবে।  এতে  সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। 

নিরাপত্তা কমে যাওয়া: চেনা-অচেনা অনেককেই আমরা ফেসবুকে কানেক্ট করি। এতে আমাদের নিরাপত্তার ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ফেক আইডি থেকে আজকাল হুমকি দেওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এছাড়া অনেকেরই কোথায় গেলো, কি করলো সেটাও চেক ইন দিয়ে দেয়। যে কেউ সহজেই তার অবস্থান জেনে খারাপ কিছু করতে পারে।   

মনোযোগ কমে যাওয়া: অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফেসবুকে কখন কি হলো, কে কি ছবি দিলো, চ্যাটিং করা এগুলোর প্রতি বেশি আকর্ষণ কাজ করে।   এতে ধীরে ধীরে  বাস্তব জীবনে কি ঘটছে সেগুলোর প্রতি আকর্ষণ কমে যেতে পারে।  ।  এর ফলে কোনো কাজে মনোযোগ দেয়া কঠিন  হয়ে যায়। আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেনা  যে ফ্রেন্ড বা পরিবারের সদস্যদের   সাথে গল্প করার সময় ফেসবুকে ব্যস্ত  থাকে। 

বিষন্নতায়  ভোগা: ভার্চুয়াল জীবনে আসক্ত হওয়ায় ও বাস্তব জীবনে মনোযোগ কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে বন্ধু বান্ধব কমে যাওয়া, কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, একাকিত্বে ভোগা  ইত্যাদি সমস্যা শুরু হয়। সবকিছু মিলিয়ে ধীরে ধীরে কিছু বুঝে উঠার আগেই বিষন্নতা কাজ করে।  

কিভাবে বের হয়ে আসবো আসক্তি থেকে? 

যখনই  এই বিষয়টি আপনার দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করবে তখনই বুঝতে হবে আপনার ফেসবুক আসক্তি হয়েছে এবং এর থেকে বের হতে  চেষ্টা করতে হবে। 

টাইম লিমিট রাখা: কখন এবং কতক্ষন ফেসবুক ব্যবহার করবেন সেটা চিন্তা করতে পারেন। একেবারে কমানোর চাইতে আস্তে আস্তে কমাতে পারেন। শুধু ওই নির্দিষ্ট সময়েই ফেসবুক ব্যবহার করবেন। এতে এই বিষয়টি একটা রুটিনের মত হয়ে যাবে।  

নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা: যেসব নোটিফিকেশন অকারণেই আসে সেগুলো বন্ধ করা যেতে পারে। এতে  মনোযোগ নষ্ট হবে না ।  

বাস্তবে বন্ধুবান্ধব তৈরী করা: ভার্চুয়াল জীবনের বন্ধুবান্ধব তৈরীর চাইতে বাস্তবিক জীবনের বন্ধুবান্ধবদের অগ্রাধিকার দেয়া।  

নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখা: ফেসবুকে  অযথা সময় নষ্ট করার চেয়ে কোনো প্রোডাক্টিভ কাজ করা যেতে পারে। এতে কাজের অভিজ্ঞতা বাড়বে যা চাকরি জীবনে পরবর্তীতে সহায়ক হবে।

নিজেকে উৎসাহিত করা: যখন আপনি নিজেকে ফেসবুক ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে পারবেন তখন নিজেকে উৎসাহিত করতে পারেন নানা ভাবে। যেমন- নিজেকে কোনো গিফট দেয়া, পছন্দের কোন খাবার খাওয়া ইত্যাদি। সব কিছুরই ভালো-মন্দ দিক রয়েছে। তবে আমরা যদি নিয়ন্ত্রিত পরিসরে ফেসবুক ব্যবহার করি সেক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই এড়িয়ে চলা সম্ভব। আপনার মানসিক যেকোন সমস্যায় মায়াতে প্রশ্ন করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Leave a Reply