অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা- লক্ষন

ক্ষুধাহীনতার প্রধান লক্ষণ হচ্ছে ওজন হ্রাস, এছাড়াও অন্যান্য শারীরিক মানসিক লক্ষণ রয়েছে।
 
১.ওজন হ্রাসঃ
 
ক্ষুধাহীনতায় আক্রান্ত একজন ব্যক্তি খুব কম ওজনের হতে চানএতোটাই কম যেটা তাদের বয়স উচ্চতা অনুযায়ী যেটা উপযুক্ত তার থেকেও অনেক কম। তারা ওজন বাড়ানোর ভয়ে এতোটাই ভীত যে তারা সাধারণ খাওয়াটুকুও খেতে পারে না। ওজন হারানোর প্রচেষ্টায় তারা যা করতে পারে
 

  • খাবার গ্রহনের সময় অনুপস্থিত থাকা, খুব সামান্য খাওয়া গ্রহন করা বা কোনো চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া এড়িয়ে যাওয়া
  • তারা কি এবং কখন খেয়েছে সেই সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেয়া
  • অত্যধিকবার খাদ্যে ক্যালোরি গণনা
  • তাদের ওজন সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলা
  • অত্যধিকবার ব্যায়াম করা
  • ক্ষুধা দমিয়ে রাখার খাদ্য বড়িগুলো এবং চিকন করার ওষুধ গ্রহণ করা
  • নিজেদের জোর করে বমি করানোআপনি লক্ষ্য করবেন তারা অবিলম্বে খাওয়ার পরে টেবিল ছেড়ে উঠে যেতে পারে অথবা তাদের দাঁতের ক্ষয় পাওয়া যায় বা বমির মধ্যে অ্যাসিড দ্বারা সৃষ্ট নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।
  • তারা laxatives বা diuretics (যে ঔষধ শরীর থেকে তরল অপসারণ করতে সাহায্য করে) গ্রহন করতে পারে, যদিও বাস্তবে খাদ্য থেকে শোষিত ক্যালোরি উপর এসব ঔষধের সামান্যই প্রভাব থাকে।

 

  1. আত্মসম্মান, শারীরিক গঠনের সমস্যা

 
ক্ষুধাহীনতায় ভুক্ত মানুষ প্রায়ই বিশ্বাস করে যে মানুষ হিসেবে তাদের মূল্য তাদের ওজন বাহ্যিক চেহারার উপর নির্ভরশীল। তারা এটাও মনে করে থাকে যে অন্যান্যরা তাদের আরো বেশী পছন্দ করবে অথবা তারা আনন্দিতবোধ করবে যদি তারা চিকন হয় এবং তাদের অত্যধিক ওজন কমানোর প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক ভাবে দেখবে।
 
তাদের প্রায়ই নিজেদের চেহারা দেখতে কেমন এই সম্পর্কে অপ্রাসঙ্গিক ধারনা আছে, যে ধারনা তারা মোটা না হওয়া সত্ত্বেও মোটা হিসেবে নিজেদের গণ্য করে।
 

  • অনেকে তারা কতটুকু চিকন সেটা লুকিয়ে রাখার জন্য আলগা বা বেঢপ কাপড় পরার চেষ্টা করতে পারেন
  • অনেকে কিছু আচরণ চর্চা করে থাকে, যা নিরবচ্ছিন্নভাবে এবং বারবার আচরণের টাইপ অভ্যাস:
    -নিজেদের ওজন মাপা
    -নিজেদের কোমরের আকার পরিমাপ করা,
    -আয়নায় তাদের শরীর পরীক্ষণ

 
ক্ষুধাহীনতায় ভোগা মানুষের সাধারণত আত্মমর্যাদা কম বা আত্মবিশ্বাস কম হয়ে থাকে। তারা সম্পর্ক থেকে নিজেকে প্রত্যাহার, পরিবার এবং বন্ধুদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং পূর্ববর্তী যেসব কর্মকান্ড তারা উপভোগ করতো সেগুলোর প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেনএছাড়াও ক্ষুধাহীনতার কারনে একজন ব্যক্তির স্কুলের কার্যক্রম বা কর্মক্ষেত্রে তাদের অবদান প্রভাবিত হতে পারে
 
ক্ষুধাহীনতার আরো কিছুটি লক্ষণঃ

  • দীর্ঘ সময়যাবত খুব সামান্য খাদ্যাগ্রহনের কারনে আরো কিছু শারীরিক উপসর্গ হতে পারে, যেমন:
  • পেট ফুলে যাওয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
  • মাথাব্যাথা
  • উদ্ভ্রান্ত বা হতবুদ্ধি অনুভব
  • খুব ক্লান্ত বোধ করা
  • ঠাণ্ডা লাগা
  • রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার কারনে হাত এবং পা বর্ণহীন হয়ে যাওয়া
  • শুষ্ক ত্বক
  • মাথার খুলি থেকে চুল পড়ে যাওয়া
  • পেটে ব্যথা
  • ঘুমানোর সমস্যা
  • শরীরের উপর অবাঞ্ছিত লোম গজানো
  • ভঙ্গুর নখ

যেসব শিশুদের ক্ষুধামান্দ্য রয়েছে তাদের বয়ঃসন্ধি এবং শারীরিক বৃদ্ধি বিলম্ব হতে পারে তারা প্রত্যাশিত ওজনের তুলনায় কম ওজন লাভ করতে পারে এবং একই বয়সের অন্যদের চেয়ে ছোট আকারের হতে পারে নারী বয়স্ক মেয়েদের ক্ষুধাহীনতার কারনে(বাধক, অথবা অনুপস্থিত ঋতুচক্র নামে পরিচিত) মাসিক বা ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে

Leave a Reply