অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা- কারণ - মায়া

অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা- কারণ

ক্ষুধামন্দার সঠিক কারণগুলো অস্পষ্ট। যদিও অধিকাংশ বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী এটা হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক, পরিবেশগত, জৈবিক ও জেনেটিক  কারণগুলোর সংমিশ্রিত ফলাফল।
 
১. মনস্তাত্ত্বিক কারণ
 
যারা ক্ষুধাহীনতায় ভোগে তাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তিত্ব ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলো সাধারণভাবে সকলের মাঝেই বিদ্যমান যেটা ক্ষুধামন্দা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেএর মধ্যে রয়েছে:
 

  • বিষণ্নতা ও উদ্বেগের প্রতি আকর্ষণ  
  • ধকল/চাপ সামলাতে না পারা
  • ভবিষ্যত সম্পর্কে অত্যধিক চিন্তা, সংশয় বা ভয়
  • perfectionism – সবকিছু একদম ঠিক হতে হবে এমন মনোভাব
  • খুব বেশি আবেগ নিয়ন্ত্রন করতে চাওয়া
  • অযৌক্তিক কাজ করা বা অবাঞ্ছিত চিন্তা করা
  • কিছু ছবি বা জৈবিক চাহিদা যেগুলো এই ধরনের কাজ করার জন্য প্ররোচনা করে

 
ক্ষুধাহীনতা সঙ্গে কিছু মানুষের মোটা হওয়ার প্রতি ভয় (বিতৃষ্ণা) এর সম্পর্ক আছে
 

  1. পরিবেশগত উপাদান

 
বয়ঃসন্ধি ক্ষুধাহীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত উপাদান। এটা সম্ভবত হরমোনের পরিবর্তন এবং বয়ঃসন্ধির কারণগুলোর মিশ্রিত ফলাফল যার কারনে ক্ষুধাহীনতার সময় মানসিক চাপ, উদ্বেগ এর সৃষ্টি হয় এবং আত্মমর্যাদা কমে যায়।
 
সংস্কৃতি এবং সমাজও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মেয়েরা এবং একটি ক্ষুদ্রতর ব্যাপ্তিতে ছেলেরাও ক্রমাগত বিভিন্ন মিডিয়ার বার্তাগুলো থেকে উন্মুক্ত ধারণা পাচ্ছে যে চিকন হওয়া মানেই হচ্ছে সুন্দর ম্যাগাজিন ও সংবাদপত্রগুলোও সেলিব্রীটিদের নগণ্য শারীরিক অসম্পূর্ণতাগুলো গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করে, উদাহরণস্বরূপ সামান্য কিছু বাড়তি ওজন যোগ হওয়া বা চামড়া কুঁচকে যাওয়ার মত ব্যাপারগুলো।
 
অন্যান্য পরিবেশগত বিষয় যেগুলো ক্ষুধামন্দার প্রতি অবদান রাখতে পারে সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হল:
 

  • স্কুলের চাপ এবং ধকল, বিশেষ করে পরীক্ষা, শারীরিক ওজন বা আকৃতি সম্পর্কে উত্ত্যক্ত করা
  • কর্মক্ষেত্র বা শখ পুরনের স্থানগুলোতে যেমন মডেলিং, নাচ বা শরীরচর্চা যেখানে চিকন হওয়াকে আদর্শ হিসেবে দেখা হয়,
  • একটি কষ্টদায়ক জীবন ঘটনা, যেমন একটি পেশা হারানো, একটি সম্পর্ক বা শোকের ভাঙ্গন অথবা কোন আত্মীয়র মৃত্যু
  • খারাপ পারিবারিক সম্পর্ক
  • শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার

 
ক্ষুধাহীনতা প্রায়ই খাদ্যসংযম হিসেবে শুরু হয় যা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
 

  1. জৈবিক এবং জেনেটিক কারণের

 
কিছু সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বা হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন ক্ষুধাহীনতায় একটি ভূমিকা পালন পারে, যদিও এটা স্পষ্ট নয় যে এই ভূমিকা ক্ষুধামন্দার দিকেই ধাবিত হবে অথবা পরবর্তীতে অপুষ্টিজনিত কারনে ক্ষুধামন্দায় রুপান্তরিত হবে।
 
এই পরিবর্তনগুলি মস্তিষ্কের যে অংশ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে সেই অংশকে প্রভাবিত করতে পারে, অথবা খাবার খাওয়া বাদ পরে যাওয়ার পর বা অত্যধিক ব্যায়াম করার পর উদ্বেগ এবং অপরাধবোধ এর সৃষ্টি হতে পারে
 
ক্ষুধামন্দা গড়ে তোলার ঝুঁকি তাদের মধ্যেও চিন্তা করা যায় যাদের পারিবারিক ইতিহাস এর মধ্যে আহার ব্যাধি পরিলক্ষিত, যাদের মধ্যে বিষণ্নতা বা উপাদানের অপব্যবহার বিদ্যমান, যেটা বংশানুক্রমিক প্রভাবের ভূমিকাকে নির্দেশ করে।  

Leave a Reply