ক্ষুধাহীনতা বা অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা - মায়া

ক্ষুধাহীনতা বা অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা

ক্ষুধাহীনতা বা অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা একটি গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা।
এটি একটি  খাদ্ব্যায সংক্রান্ত ব্যাধি  যাতে মানুষ তাদের শরীরের ওজন যতটা সম্ভব কম রাখে কিংবা রাখতে চায়৷ ক্ষুধাহীনতায় মানুষ সাধারণত খাবার পরিমাণ সীমার মধ্যে রাখে, নিজে নিজে বমি করে এবং অতিরিক্ত ব্যায়াম করে৷
সাধারহনতঃ অবস্হায় শরীর মোটা না চিকন, দেখতে কেমন এই দুশিন্তা থেকে এই সমস্যার শুরু হয়।  
ক্ষুধাহীনতায় মানুষ নিজেকে মোটা ভাবে যদিও সে মোটা না তারপরও সে নিজেক মোটা মনে করে এবং নিজেক মোটাই দেখতে পায়। 
ক্ষুধাহীনতা সাধারনতঃ মেয়ে এবং নারীদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছেলেদের এবং পুরুষদের মধ্যেও এটি  বেশ দেখা যাচ্ছে৷ গড়পরতা প্রথমতঃ ১৭ থেকে ১৬ বছর বয়সের দিকে এটি বেশি দেখা যায় । 
ক্ষুধাহীনতার (ক্ষুধামান্দ্য) লক্ষণ
এই সমস্যায় মানুষ প্রায়ই পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবদের সাথে কি খেয়েছে, বা খেয়েছে কিনা সে ব্যাপারে মিথ্যা বলে থাকে।
প্রায়ই খাবার টেবিলে অনুপস্থিত থাকা, খুব সামান্য খাওয়া-দাওয়া করা বা কোনো চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।
খাদ্যে ক্যালোরি গণনা করা এবং বাড়াবাড়িভাবে এটি মেনে চলা।
খাওয়া-দাওয়ার পর দ্রুত সবার সামনে থেকে সরে যাওয়া যাতে তারা বমি করতে পারে৷
ক্ষুধা দমিয়ে রাখার জন্য laxatives বা diuretics জাতীয় ওষুধ (ঔষধ যে শরীর থেকে তরল অপসারণ করতে সাহায্য করে) গ্রহণ করা।
বারবার ওজন মাপা।
বারবার আয়নায় শরীর পরীক্ষা করা।
বিভিন্ন শারিরিক সমস্যা যেমন চুল পড়া, মনোযোগ কমে যাওয়ার মত সমস্যা দেখা দেওয়া।  
ক্ষুধাহীনতা একটি মানসিক সমস্যা যার প্রভাব শারিরিকভাবে পড়ে। এর সাথে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাস কমে আসা, এলকোহল গ্রহন এবং নিজের ক্ষতিসাধনের মত সমস্যাও জড়িত।
আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করবেন কিভাবে 
ক্ষুধাহীনতায় আক্রান্ত মানুষ প্রায়শই কোন সহযোগিতা চায়না। এর সম্ভাব্য কারণ তারা ভয় বা সঙ্কোচবোধ করে।অথবা এটিকে সমস্যাই বলে মনে করে না বা এটি যে সমস্যা সেতা বুঝতে পারেনা।এটি কখনও কখনও কয়েক বছর ধরে ধরা না পড়ার মত অবস্থায়ও থাকতে পারে।
ক্ষুধাহীনতায় আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে এনিয়ে আলোচনা করা খুবই কঠিন একটি কাজ কারন তারা এটি স্বীকার করতে চায় না এবং এব্যাপারে আক্রমণাত্মক তর্কে চলে যায়।এনিয়ে আলাপ করার সময় খুবই ধীর-স্থির এবং শান্তভাবে আলাপ করতে হবে এবং কোনভাবেই রেগে যাওয়া চলবে না কারন এতে সাহায্য করা সম্ভব হয়ে উঠবে না। 
আপনি কি মনে করেন আপনার ক্ষুধাহীনতা থাকতে পারে?  তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাহায্য চাইতে চেষ্টা করুন৷ আপনি আপনার বিশ্বস্ত এবং কাছের কারো সাথে এনিয়ে আলোচনা করতে পারেন।এরপর একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে পারেন।
ক্ষুধাহীনতার চিকিৎসা 
ক্ষুধাহীনতার চিকিৎসা করার পূ্র্বে প্রথমে আপনার চিকিৎসক আপনার শারিরিক এবং মানসিক অবস্থা বুঝতে এই সংক্রান্ত পরীক্ষা করে নিতে পারেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে, চিকিৎসা পদ্ধতিতে মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা যেমন থেরাপি এবং ওজন বৃদ্ধি ও পুষ্টি লেভেল বজায় রাখতে খাদ্যসংক্রান্ত পরামর্শ- সবই অন্তর্ভুক্ত থাকে।ক্ষুধাহীনতা থেকে সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধারের জন্য চিকিৎসায় বেশ কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। মাঝে মাঝে পুনরায় অসুস্থতা  দেখা দিতে পারে৷ উদাহরণস্বরূপ, গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি না হলে মাঝে মাঝেই অসুস্থতা দেখা দিতে পারে এবং পুনরায় অ্যানোরেক্সিয়া দেখা দিতে পারে।
ক্ষুধাহীনতা ব্যক্তিরা চিকিৎসা নেওয়া সত্ত্বেও  খাওয়া সংক্রান্ত কিছু  সমস্যা অব্যাহত থাকবে। 
ক্ষুধাহীনতায় দীর্ঘ সময়ের জন্য চিকিৎসা যদি সফল না হয়ে থাকে, তবে অনেক ধরনের গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে৷এর ফলে ভঙ্গুর হাড়, বন্ধ্যাত্ব, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ও অন্যান্য হার্টের সমস্যা হতে পারে। 
একটি বিরল অবস্হা হওয়া সত্ত্বেও, ক্ষুধাহীনতা মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা  যা মৃত্যুর দিকেও যেতে পারে৷এর কারণ হলো অপুষ্টিজ্বনিত প্রভাব কিংবা আত্মহত্যার মত পদক্ষেপ নেওয়া।
ছবি সূত্রঃ buzzbournemouth.ac.uk

Leave a Reply