কোমড় ব্যাথা - মায়া

কোমড় ব্যাথা

 
দাদী নানি লাঠি হাতে সামনের দিকে একটু ঝুঁকে হাঁটছেন,এই ঘটনাটি যতটা দৃষ্টিনন্দন,একজন অল্পবয়স্ক মানুষকে যদি আজীবন এভাবে হাঁটতে হয় তাহলে বিষয়টা একদমই উপভোগ্য হবেনা। জীবনের কোন না কোন সময়ে কোমর ব্যাথা সবাইকে প্রভাবিত করে।
কোমড় ব্যাথার কারনসমূহ
বেকায়দায় বসা, কোন ভারি জিনিস ওঠানো,বহন করা,টানা বা ধাক্কা দেয়া,অনেক্ষন ধরে দাঁড়িয়ে বা কুঁজো হয়ে থাকা,একটানা দীর্ঘসময় গাড়ী চালানো কোমড় ব্যাথার কিছু সাধারন কারন । অনেকসময় কোন নির্দিষ্ট কারন ছাড়াই পিঠ এবং কোমড় ব্যাথা হতে পারে ।
কী করণীয়
বেশীরভাগক্ষেত্রে কোনধরনের চিকিৎসা ছাড়াই ব্যাথা ভাল হয়ে যায় । তারপরও পিঠ ব্যাথা কখন গুরুতর আকার ধারন করতে পারে সেব্যাপারে চিকিতৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত ।
যদি কোন জানা কারনে(,যেমন ভারী কিছু তোলা বা বেকায়দায় বসা),পিঠে ব্যাথা হয়ে থাকে তাহলে নিজের চিকিৎসা নিজেই করা ভাল । পর্যাপ্ত বিশ্রাম,গরম সেঁক,গরম পানিতে গোসল,আইস প্যাক এ ক্ষেত্রে বেশ উপকারি । তবে বরফ সরাসরি চামড়ায় লাগানো যাবেনা,এতে ‘কোল্ড বার্ন’ হবার সম্ভাবনা থাকে । দুইদিনের বেশি বিশ্রাম অনেকসময় ক্ষতির কারন হতে পারে,সেক্ষেত্রে দুদিন পর থেকে কষ্ট হলেও দৈনন্দিন কাজ শুরু করতে হবে ।
পাশ ফিরে শোয়ার ক্ষেত্রে হাঁটু কিছুটা মুড়ে বুকের কাছে এনে দু’পায়ের ফাঁকে বালিশ দিলে এবং সোজা হয়ে শোয়ার ক্ষেত্রে হাঁটুর নিচে বালিশ দিলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষা হয় যাতে পিঠ ব্যাথা উপশম হয় ।
ব্যাথার পুনরাবৃত্তি রোধে
পিঠব্যাথা রোধে কিছু সাধারন ব্যায়াম বেশ উপকারি ।
মেঝেতে সোজা হয়ে শুয়ে পা টান রেখে এক পা মেঝে থেকে কিছুটা উপরে তুলুন,কিছুক্ষন রেখে নামান । একইভাবে অপর পা করুন । এভাবে প্রতিদিন পাঁচবার করুন ।
দুই হাত,দুই পা দু’পাশে ছড়িয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ান,দেয়াল ঘেষে হাঁটু ভাঁজ করে বসুন,৫ পর্যন্ত গুনুন আবার দাঁড়ান । এভাবে পাঁচ বার করুন ।
মেঝেতে সোজা হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা মেঝেতে ঠেকান । কোমড় থেকে নিম্নাংশ উপরে তুলুন,৫ পযন্ত গুনুন,তারপর নামান । আপনার পিঠের সহ্য ক্ষমতা অনুযায়ী এই ব্যায়ামটি করুন ।
চল্লিশের পর মহিলাদের হাড় দূর্বল হতে শুরু করে । তখন ভারী কিছু তোলা,টানা বা বহন করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত । অফিসে কাজের সময় কিছুক্ষন পর পর বসার ষ্টাইল পরিবর্তন করলে পিঠ এবং কোমড় ব্যাথার আশংকা কমে যায় । বসার সময় খেয়াল রাখতে হবে পিঠ যেন পরিপূর্ন সাপোর্ট পায় এবং পায়ের পাতা মেঝেতে থাকে ।
বয়স্ক মহিলাদের শরীরে ‘ইস্ট্রোজেন’ হরমোনের অভাবে পাকস্থলি ও হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষন ক্ষমতা কমে যায় ফলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয় । যার কারনে হাড় দূবল হয়ে পড়ে এবং ব্যাথা ও ভাঙ্গার সম্ভাবনা বেড়ে যায় । এসব ক্ষেত্রে অতিদ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত ।
ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন,ফ্ল্যাট স্যান্ডাল পড়ুন,সক্রিয় থাকুন ।
ছবি সূত্র: indianexpress.com
 

Leave a Reply