A patient affected by diarrhoea is seen at the International Centre for Diarrhoeal Disease and Research Bangladesh (ICDDRB) in Dhaka April 22, 2009. A spreading diarrhoea epidemic caused by drinking unsafe water and eating rotten food has killed at least 34 people in Bangladesh since January, and made thousands more sick, doctors and officials said on Wednesday. REUTERS/Andrew Biraj (BANGLADESH HEALTH SOCIETY)

ডায়রিয়া

ডায়রিয়া কাকে বলে

ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হওয়াকে ডায়রিয়া বলা হয়। সাধারণত যখন পেটের খাবার ঠিক ভাবে শোষিত না হয় বা অতিরিক্ত পানি  অন্ত্র মধ্যে নিঃসৃত হয় তখন ডায়রিয়া হয়ে থাকে।

ডায়রিয়া কয় রকম

তীব্র তরল ডায়রিয়া-এটা সাধারণত কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন থাকে,এর মধ্যে রয়েছে কলেরা।
তিব্র রক্তযুক্ত ডায়রিয়া- একে ডিসিন্ত্রি বলা হয়।
ক্রমাগত ডায়রিয়া-যা ১৪ দিনের বেশিও থাকতে পারে।

ডায়রিয়ার কারণসমূহ

ডায়রিয়া সাধারণত পাচক্ তন্ত্রে কোন ইনফেকশনের জন্য হয়ে থাকে, যা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ভাইরাল এবং পরজীবী প্রাণী দ্বারা হয়ে থাকে। এর মুল কারণগুলো হচ্ছে-

  1. ভাইরাস- যেমন rotavirus,winter vomiting disease (Norwalk virus বা norovirus), enterovirus, বা hepatitis virus।
  2. ব্যাকটেরিয়া- যেমন E. coli, salmonella, shigella, C.diff (clostridium), বা cholera (Vibrio cholerae).
    পেরাসাইট-যেমন যেই সব দিয়ে giardiasis এবং amoebiasis হয়ে থাকে।

    আরেকটি ধরণের ডায়রিয়া আছে যাকে বলা হয় traveler’s diarrhoea যার দ্বারা কম বেশী সবাই জীবনের কখনো না কখনো আক্রান্ত হয়েছে। এটা সাধারণত বেড়াতে গেলে কলুষিত খাবার বা পানি থেকে হয়।

অল্প সময়ের জন্য ডায়রিয়া হওয়ার অন্যান্য কারণগুলো হচ্ছেঃ

  • উদ্বেগ অনুভব করা
  • অতিরিক্ত এলকোহল বা কফি পান করলে
  • কোন খাবারে এলার্জি হলে
  • এপেনডিসাইটিস
  • রেডিওথেরাপির জন্য intestine যদি কোন ক্ষতি হয়।
  • ডায়াবেটিস
  • হাইপারথাইরয়েডিসম
  • ল্যাকটোজ, একধরণের চিনি যা দুধ এবং দুধ জাতীয় খাবারে পাওয়া যায়। যাদের এই চিনি হজম করতে কষ্ট হয় সাধারণত ওনাদের ডায়রিয়া হয়ে থাকে।
  • মেডিকেশনঃ অনেক ধরণের ওষুধ রয়েছে যেমন এন্টিবায়োটিক যার দ্বারা ডায়রিয়া হয়ে থাকে।এন্টিবায়োটিক,  ভাল এবং খারাপ উভয় ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে যার কারনে ব্যাকটেরিয়ার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে। আরও কিছু ওষুধ আছে যার কারনে ডায়রিয়া হয়ে থাকে যেমন ক্যান্সারের ওষুধ ও ম্যাগনেসিয়াম মিশানো এনটাসিড।

ডায়রিয়ার চিকিৎসা

ডায়রিয়া বেশ কিছু দিন পর্যন্ত থাকতে পারে এবং এর কারনে পুরো শরীর থেকে বেচে থাকার জন্য যে পানি এবং লবন দরকার সেটা বেড়িয়ে যেতে পারে। সাধারণত ডায়রিয়ার রোগী পানিশূন্যতা আর তরল বেড়িয়ে যাওয়ার কারনে মারা যায়। সেই জন্য ডায়রিয়া ভালো করে বুঝে চিকিৎসা করা উচিৎ।

ডায়রিয়া চিকিৎসা করার সব থেকে গুরতপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পানিশূন্যতা হতে না দেয়া আর পায়খানার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া পানি  প্রতিস্থাপন করা। ডায়রিয়ার কারনে যেই পানি বের হয়ে যায় তার মধ্যে রয়েছে চিনি, সোডিয়াম,পটাশিয়াম যা শুধু পানিতে পাওয়া যায়না। সেই জন্য যেই সব তরলে এইসবের মাত্রা বেশী সেগুলো পান করা উচিৎ। যেমন খাবার স্যালাইন।

ডায়রিয়ার সাথে যদি বমি হয় তাহলে একেবারে বেশী না খেয়ে প্রত্যেক ১৫ মিনিট পর পর অল্প পরিমান স্যালাইন খাওয়া উচিৎ। যখন বমি আর হবেনা তখন নরম খাবার বা সুপ খেতে পারে।
যতক্ষণ বমি না থামে ততক্ষণ ফ্যাট ,চিনি, কফি, দুধের তৈরি এবং কিছু ফলের জুস খাওয়া যাবেনা।  
Image Source: alarmy.com

Leave a Reply