ঘামাচি - মায়া

ঘামাচি

ঘামাচি
ঘামাচি একটি চুলকানিযুক্ত ছোট ফুসকুরি বা র‍্যাশ, যা দেখতে ছোট, উচু ও লাল রঙ এর দাগ ওয়ালা এবং যা ত্বকে যন্ত্রনাদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি করে। ঘামাচি শরীরের যেকোন জায়গায় হতে পারে, কিন্তু এটা বেশিরভাগ ঘাড়, পিঠ, কোমরের রেখার উপর, বগলের নিচে, বুকে এবং উরুতে দেখা যায়। ঘামাচি ছোট দাগ এর মত যা চারপাশে লাল হয়ে যাওয়া চামড়া দিয়ে ঘেরা থাকে। এই দাগ কখনো কখনো ছোট ফোস্কার মত দেখতে। এগুলো সামান্য ফুলে যায়, কুটকুটে এবং যন্ত্রনাদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি করতে পারে।


ঘামাচির কারণ কি?
সাধারণত ঘামাচি হয় যখন একজন মানুষ স্বাভাবিকের চেয়েও বেশী ঘামে, যেমন গরমের সময় অথবা আর্দ্র তাপমাত্রায়। তখন শরীরের ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে যায়, ফলে অতিরিক্ত ঘাম ত্বকের নিচে আটকে পড়ে। এই ঘাম ত্বকে জ্বলুনি এবং গরমের ফোস্কার মত সৃষ্টি করে। আপনি ঘামাচির ঝুঁকিতে থাকবেন যদি আপনি গরম অঞ্চলে থাকেন, আর্দ্র তাপমাত্রায় থাকেন যেখানে আপনার ঘাম স্বাভাবিকের চেয়েও বেশী হয়।

ঘামাচির উপসর্গ কি?
ঘামাচির প্রধান উপসর্গ হল ছোট ফুসকুরি যা ছোট এবং লাল দাগের মত হয়। এই ফুসকুরি গরম তাপমাত্রা শুরু হওয়ার কিছুদিন পর দেখা দেয়। সাধারনত, প্রিকলি হিটের উপসর্গগুলো কয়েক সপ্তাহ বা মাসের আগে দেখা দেয়না।

ঘামাচির ফুসকুরি ছোট ছোট ফোস্কার মত হয় যার চারপাশের ত্বক লাল রেখা থাকে। এই দাগগুলো অনেক সময় ছোট ফোস্কার মত মনে হয় এবং এগুলোর ফলে নিচের লক্ষণ দেখা দিতে পারেঃ

  • সামান্য ফুলে যাওয়া
  • চুলকানী
  • একটি  যন্ত্রনাদায়ক কুটকুটে অনুভূতি

ঘামাচির অনুভূতি সাধারণত শরীরের যেসব জায়গা কাপড় দ্বারা আবৃত থাকে, সেসব জায়গায় সবচেয়ে খারাপ হয়। এর কারণ কাপড় থাকলে আপনি ঘামবেন এবং কিছু কাপড় ত্বকের সাথে ঘর্ষন তৈরি করে।

ঘামাচির চিকিৎসা
ঘামাচি গুরুতর অবস্থা নয় এবং খুব কমই চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এই ফোস্কা সাধারণত কিছুদিন পর আপনা আপনি চলে যায়। তবে, যদি আপনার ঘামাচি থাকে, কিছু জিনিস আপনি করতে পারেন যা এই উপসর্গ কমিয়ে দিবেঃ

  • অতিরিক্ত তাপ এবং আর্দ্রতা এড়িয়ে চলা
  • যদি আপনার বাইরে যাবার প্রয়োজন হয়, ছায়ায় সময় কাটান অথবা সাথে ছোট পাখা রাখুন। বার বার গরমের মধ্যে গেলে তা বেশী ঘামের কারণ হতে পারে এবং এটি আপনার ঘামাচিকে আরো খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাবে।
  • ঢিলে-ঢালা পাতলা সুতি কাপড় পরুন – সিন্থেটিক সুতার তৈরী কাপড় এড়িয়ে চলুন, যেমন পলিস্টার এবং নাইলন, কারন এগুলি প্রাকৃতিক সুতার তুলনায় বেশি তাপ ধারন করে।
  • আপনার ত্বককে ঠান্ডা রাখুন- ঠান্ডা পানিতে গোসল আপনাকে ঠান্ডা হতে সাহায্য করবে, ত্বককে আরাম দেবে এবং ঘাম হওয়া থামাবে। প্রতদিন কয়েক ঘন্টার জন্য এসি রুমে অবস্থান করলেও কিছুটা আরাম পাতে পারেন।
  • বরফের টুকরা ঘষা- বরফের টুকরা ঘষে জ্বালাপোড়া অনুভূতি থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে পারেন। আপনি বরফের বদলে ঠান্ডা আইস প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন।
  • পারফিউম ছাড়া ট্যালকম পাউডার- যেখানে বিশেষভাবে ঘামাচি হয়েছে সেখানে পারফিউম ছাড়া ট্যালকম পাউডার বা বিশেষ ঘামাচি’র পাউডার দিনে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ বার।
  • অ্যালোভেরা জেল- যন্ত্রনা থেকে আরাম পেতে জেল ব্যবহার করতে পারেন। যন্ত্রণা থেকে মুক্তির পাশাপাশি এটি সারিয়ে তোলে এবং শীতল অনুভূতিও দিয়ে থাকে।
  • ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করুন- বেশীরভাগ ফার্মেসিতে এটা পাওয়া যায়; এটা ফোস্কা সারিয়ে তোলে এবং ত্বকের জ্বলুনি কমায়।
  • প্রচুর পরিমানে সাইট্রাস জুস পান করুন- উদাহরনস্বরূপ লেবুর সরবত, যা আপনার দেহের আভ্যন্তরীন তাপ কমিয়ে দিবে এবং পানিস্বল্পতা পূরণে সাহায্য করবে। এটা ঘামাচি সৃষ্টির সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।


কাদের ঘামাচি হয়?
যে কারোরই ঘামাচি হতে পারে কিন্তু যাদের ওজন অনেক বেশী তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। কারণ তারা বেশী ঘেমে থাকে। শিশু এবং বাচ্চাদের ঘামাচি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে কারণ তাদের ঘর্মগ্রন্থি পুরোপুরি গঠিত হয় না।

মায়া বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে মায়া এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করুন এখান থেকে: https://bit.ly/2VVSeZa