জরায়ু মুখের ক্যান্সার নিয়ে জীবন যাপন

আপনার ক্যান্সার কোন পর্যায়ে আছে তার উপর নির্ভর করবে, এটা আপনার দৈনন্দিন জীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে।
জরায়ু মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসায় কারো কারো র‍্যাডিকাল হিস্টেরেক্টোমি (radical hysterectomy) করাতে হয়। এটি একটি বড় ধরনের অপারেশন। পুরোপুরি সুস্থ হতে প্রায় ৬ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় লাগে। এসময় আপনি ভারী কোন কাজ করতে পারবেন না, ভারী কিছু তোলা যাবে না, যেমন বাচ্চা কোলে নেয়া বা বাজারের ব্যাগ বহন করা ইত্যাদি।
আপনি যদি গাড়ী চালিয়ে থাকেন, তবে ৩/৪ সপ্তাহ গাড়ী চালাতে পারবেন না। এই অপারেশনের পর স্বাভাবিক কাজে ফিরতে সাধারনত ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় লেগে যায়।
জরায়ু মুখের ক্যান্সারের কিছু কিছু চিকিৎসায় যেমন, কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি গ্রহন করলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, ক্লান্ত বোধ হয়। সেক্ষেত্রে আপনার দৈনন্দিন কাজের মাঝে প্রয়োজনমত বিশ্রাম নিন, অন্যের সাহায্য প্রয়োজন হলে সঙ্কোচ করবেন না।
কর্মক্ষেত্র
ক্যান্সার আক্রান্ত বলেই যে চাকরী ছেড়ে দিতে হবে এমন কোন কথা নেই। তবে এক্ষেত্রে আপনি আগের মত কাজ করতে পারবেন না, একটু বেশি বিশ্রামের প্রয়োজন হবে। হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে যাওয়া, পরিক্ষা নিরীক্ষা করানো, বেশি দুর্বল লাগলে বিশ্রাম নেয়া ইত্যাদি কারনে আপনাকে আগের তুলনায় একটু বেশীই ছুটি নিতে হতে পারে।
যৌনজীবন
জরায়ু মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসার পর অনেকেই যৌনমিলনের ব্যপারে দ্বিধায় ভুগেন। তবে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারন নাই, এক্ষেত্রে যৌনমিলন সম্পূর্ণ নিরাপদ। এর কারনে আপনার ক্যান্সার আবার ফিরে আসবে না বা তার থেকে আপনার যৌন সঙ্গীও কান্সারে আক্রান্ত হবেন না।
আপনি চাইলে চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই স্বাভাবিক যৌন জীবনে ফিরে যেতে পারবেন। এই সময়টুকু ক্ষত নিরাময়ের জন্য প্রয়োজন।
কেমথেরাপি নেয়া অবস্থায় যৌনমিলন করতে চাইলে আপনার সঙ্গীর কনডম ব্যবহার করা উচিত।
জরায়ু মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসার পর, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারনে অনেকেরই যৌন মিলনে সমস্যা হয়। কারন চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অনেকের যোনিপথ সংকীর্ণ এবং শুষ্ক হয়ে যায়। এক্ষেত্রে যোনিপথে হরমোন ক্রিম বা ডাইলেটর ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।
আরো জানতে পড়ুন – ‘জরায়ু মুখের ক্যান্সারের জটিলতা’
 
মায়া বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে মায়া এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করুন এখান থেকে: https://bit.ly/2VVSeZa