ধূমপান আসক্তি : তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রতিরোধের উপায় - মায়া

ধূমপান আসক্তি : তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রতিরোধের উপায়

ধূমপান আসক্তি থেকে মুক্তি চান? কিন্তু তীব্র বাসনাকে কিছুতেই বশ করতে পারছেনা ? ইচ্ছের এই ঘোড়াটার লাগাম টানতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন? তাহলে পুরো আর্টিক্যালটি পড়ুন।

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কথাটির সাথে পরিচিত নয় এমন মানুষ পাওয়া সম্ভব নয়। তবে, এটি জেনেও যারা এতে অভ্যস্থ হয়ে পড়েন তাদের জন্য সেটি কতটা আসক্তির সেকথা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নয়।

মনে রাখবেন, ধূমপান আসক্তি কাটিয়ে উঠার জন্য প্রতি একবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কে প্রবৃত্ত করাও সুস্বাস্থ্যের জন্য একধাপ এগিয়ে যাওয়া।

ধূমপান আসক্তি নিয়ন্ত্রণে রাখার ১০ টি উপায়

১। নিকোটিন এর পরিপূরক থেরাপি

নিকোটিন প্রতিস্থাপন থেরাপি সম্পর্কে আপনার ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুন। বিকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • অনুনাসিক স্প্রে বা ইনহেলারে প্রেসক্রিপশন নিকোটিন
  • নিকোটিন প্যাচ, গাম এবং লজেন্স
  • ডাক্তারের পরামর্শে কিছু ঔষধ

নিকোটিন গাম, লজেন্সস, অনুনাসিক স্প্রে বা ইনহেলারগুলির মতো স্বল্প-সময়ে কার্যকর নিকোটিন প্রতিস্থাপন থেরাপিগুলি আপনার তীব্র অভ্যাস বা আকাঙ্ক্ষা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে।

সম্প্রতি, সিগারেট ধূমপানের বিকল্প হিসাবে ইলেক্ট্রনিক সিগারেটগুলির সম্প্রতি প্রচুর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

তবে, ধূমপান নিবারণের জন্য বৈদ্যুতিক সিগারেটের কার্যকারিতা এবং এই ডিভাইসগুলির দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নির্ধারণের জন্য আরও বেশি গবেষণার প্রয়োজন।

২। ট্রিগারগুলো এড়িয়ে চলুন

ঠিক কোন সময়টায় আপনার ধূমপানের ইচ্ছাটা প্রবলভাবে বোধ করেন? কাজের প্রেশারে, বন্ধুর সাথে আড্ডায়? চা,কফির সাথে নাকি হতাশায় থাকলে?

ভাবুন এবং ঐসব পরিস্থিতিতে ধূমপানের পরিবর্তে কি করবেন বা কিভাবে নিজেকে ব্যস্ত রাখবেন সেটাও ভেবে ফেলুন।

তবে, সবসময় এটি নিয়ে ভাববেন না তাহলে কিন্তু হতাশা ভর করে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারেন।

৩। তীব্র আকাক্ষার কিছুটা সময়ের জন্য দেরি করিয়ে দিন

আপনি যদি মনে করেন যে আপনি আপনার ধূমপান আকাঙ্ক্ষা এখন তীব্রতর, তবে নিজেকে জানান যে আপনাকে আরও ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।

এবং তারপরে সেই সময়ের জন্য নিজেকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করুন। নিজেকে এমন কোথাও বা এমন কোন পরিস্থিতিতে নিয়ে যান যেখানে ধূমপান করতে আপনি মোটেও স্বস্তিবোধ করবেন না।

সেটা হতে পারে পাব্লিক প্লেস, রেস্টুরেন্ট, পরিবারে পরিজনের সামনে কিংবা কোন সঙ্গী যে ধূমপান বিরোধী।

৫। কিছু চিবানো

ধূমপানের আসক্তিকে প্রবল হওয়া থেকে রুখতে আপনার মুখকে ব্যস্ত রাখুন। চিনিছাড়া চুইংগাম, গাজর, মসলা, নাটস বা সিডস প্রভৃতি যেকোন স্বাস্থ্যকর বিকল্প খেতে পারেন যা খেলে মনটাও তৃপ্ত হবে।

৬। শুধু একটি খাচ্ছি বলে সন্তুষ্ট থাকবেন না

অনেক সময় আপনি ধূমপান কমিয়ে একটি সিগারেটে সীমাবদ্ধ থেকে সন্তুষ্ট থাকেন। কিন্তু জানেন কি এই একটি সিগারেট ই আরেকটা সিগারেটের আকাঙ্ক্ষা তৈরী করবে?

হতে পারে, এক থেকে আপনি আবার একাধিকে ফিরে গিয়েছেন। তাই, একটিকেও না বলুন।

৭। ব্যায়াম

শারীরিক ক্রিয়াকলাপ আপনাকে তামাকের লালসা থেকে বিরত করতে এবং তাদের তীব্রতা হ্রাস করতে সহায়তা করে। সেটা হতে পারে খুব সংক্ষিপ্ত – যেমন কয়েক বার সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা, হাঁটা বা জগিং এ বেরোন।

আপনি যদি বাড়িতে বা অফিসে আটকে থাকেন তবে স্কোয়াট, পুশআপ, জায়গায় দৌড়ানো বা সিঁড়ির একটি সেট দিয়ে উপরে এবং নীচে উঠানামার চেষ্টা করুন।

যদি আপনি শারীরিক ক্রিয়াকলাপে আগ্রহী না হন তবে প্রার্থনা, সেলাই , কাঠের কাজ বা জার্নালিংয়ের বা অন্যকোন প্রিয় কাজ করার চেষ্টা করুন।

৮। রিলাক্সেশন বা শিথিলায়ন

ধূমপান আপনার মানসিক চাপ মোকাবেলা করার একটি উপায় হতে পারে। অর্থাৎ হতে পারে, আপনি যখন হতাশ থাকেন তখনই ধূমপানের তৃষ্ণাবোধ করেন।

এমনটি হলে, তামাকের তৃষ্ণার প্রতিরোধ করা নিজেই একটি মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। গভীর-শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যায়াম, পেশী শিথিলকরণ, যোগব্যায়াম, চাক্ষুষ, ম্যাসাজ বা শান্ত সংগীত শোনার মতো শিথিলকরণ কৌশলগুলি অনুশীলন করে মানসিক চাপকে দূরে রাখুন।

৯। নিজেকে শক্ত রাখতে প্রিয়জনের সহায়তা নিন

ধূমপান আসক্তি প্রতিরোধে আপনার প্রয়াসে সহায়তার জন্য পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা সহায়তা গ্রুপের সদস্যের সাহায্য নিন।

ফোনে চ্যাট করুন, একসাথে বেড়াতে যান, কয়েকটি ভালো মুহূর্ত, হাসি ভাগাভাগি করতে পারেন।

অথবা, আপনার মত কারও একই আসক্তি থাকলে একসাথে বেরিয়ে আসার জন্য একত্রে শুরু করুন।

১০। ধূমপান ছাড়ার উপকারীতাগুলো বারবার মনে করুন

আপনি ধূমপান আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিহত করার কারণগুলি লিখুন বা উচ্চস্বরে বলুন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:

  • ভাল বোধ করা
  • সুস্বাস্থ্য
  • ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আপনার প্রিয়জনকে বাঁচানো
  • অর্থ বাঁচানো

মনে রাখবেন, অল্প কিছু করাও কিছু না করার চেয়ে ভাল। একবার ধূমপান আসক্তি প্রতিরোধ করা মানে আপনি সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত থাকার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

নিজে ভালো থাকুন। আপনার প্রিয়জনের জন্য একটি ধূমপান মুক্ত পৃথিবী গড়ে তুলুন। যে কোন সমস্যায় মায়াতে প্রশ্ন করুন

Leave a Reply

Categories