রোমান্টিক সম্পর্কে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের ৫ টি কৌশল - মায়া

রোমান্টিক সম্পর্কে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের ৫ টি কৌশল

সম্পর্কে বিশ্বাস এবং আস্থা না থাকলে তা বেশি দূর এগিয়ে নেওয়া খুব কঠিন। এই আর্টিক্যালটিতে যা থাকছে-

  • এ সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন উত্তর
  • বিশ্বাস স্থাপনের ৫ টি কৌশল

বিশ্বাস কারও সাথে মানসিকভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিল্ডিং ব্লক; এটি একটি স্বাস্থ্যকর, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য এটি একটি মৌলিক ব্যাপার।

আস্থা তৈরী করাটা যেমন সহজ তেমনি সেটি হারাতে আবার অনেক কম সময় নেয়।

বিশ্বাসভঙ্গ হওয়ার পর আস্থা পুনর্নির্মাণে সময়, ধৈর্য এবং অনেক কাজ করা লাগে, ঠিক যেমনটি এটি নির্মাণের সময় লেগেছিল কিংবা তার চেয়েও বেশি।

তবে, উভয় ব্যক্তিই অনুপ্রাণিত হলে এটি করা যেতে পারে। আপনি কি উল্লেখযোগ্য সম্ভাব্য কৌশল জেনে প্রচেষ্টা চালাতে ইচ্ছুক?

যদি তা হয়, তবে এখানে কিছু পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করব। তার আগে মায়ার প্লাটফর্মে আসা কিছু কেস স্টাডি দেখে নেই চলুন-

মায়ার প্লাটফর্মে বিশ্বাস ভঙ্গন সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন

আমার বিয়ে হয় ৩১ জানুয়ারী। আমি বিয়ের কিছুদিন পরে জানতে পারি আমার স্ত্রী এর বিয়ের আগে ৭ বছরের সম্পর্ক ছিল।যা আমাকে আমার স্ত্রী জানায়নি। পরে আমি জানতে পারি।এবং ঐ ছেলে বলেছে যে আমার স্ত্রী র সাথে তার নাকি শারিরীক সম্পর্ক ছিল।যেটা আমাকে খুব কষ্ট দিছে। আমি কিছুই ভুলতে পারছিনা।আমি এখন কি করবো।এর জন্য আমাদের সাংসারিক অনেক সমস্যা হইতেছে।আর এখন আমার মনে হয় যে আমার স্ত্রী ঐ ছেলের সাথে যোগাযোগ করে গোপন এ।আমি আমার স্ত্রী রে ক্ষমা করতে পারছিনা এখন আমার কী করা উচিৎ? আমি একজন মানোসিক ডাক্তার দেখাইভহি কোন লাভ হইনায়।এখন আমার কি করা উচিৎ? আমি কি আলাদা হয়ে যাবো।সেটা কি ঠিক হবে?

উত্তর দেখুন এখানে

আমার হাজবেন্ড এর প্রাক্তন ছিলো। আমাকে বিয়ে করেছে ৫ মাস। এখন সেই মেয়ে আবার আসতে চায় এবং আমার হাজবেন্ড হয়তো লুকিয়ে কথা বলে অথবা দেখা করে। আমি কখনো তাকে জবাবদিহি করিনা, শুধু কস্ট পাই আর লুকিয়ে কাদি। আমার হাজবেন্ড আমাকে পছন্দ করেই বরং ইমোশনাল ব্লাকমিল করে বিয়ে করেছে। আমার ভয় যদি ওই মেয়েটাকে নিয়ে সে পালিয়ে সংসার করে অথবা দেখা করে কথা বলে। এই ধরনের চিন্তা থেকে কিভাবে দুরে থাকবো??? আর আমি ২০ সপ্তাহের প্রেগন্যান্ট মা এতো চিন্তা কান্না আমার জন্য খুব ক্ষতি আমি জানি। আমার হাজবেন্ড কে প্রতিনিয়ত বোঝাই যে ছেড়ে গেছে তাকে নিয়ে আবার কেনো ভাবছো সব সে অস্বীকার করে। কি করলে সে আমার প্রতি সফট হবে অথবা তার বিবেক বুঝবে? আমি মেন্টালি ডিপ্রেশন এ চলে গেছি একা একা খুব কাদি মাঝে মাঝে মরে যেতে ইচ্ছে করে এই ডিপ্রেশন কি করে কাটিয়ে ভালো থাকবো?

উত্তর দেখুন এখানে

আস্থা অর্জনের ৫ টি কৌশল

১। যে ওয়াদা রাখতে পারবেন সেটিই করুন, যেটি পারবেন না সেটি বলবেন না

আমাদের অনেকেরই একটা বদভ্যাস থাকে আমরা কোন কিছু না ভেবেই একটা প্রতিশ্রুতি দেই এবং পরে নিজেই ভুলে যায়।

ছোট বাচ্চাদের আমরা অনেক সময় বলি এটা করলে তুমি যা চাইবে তা কিনে দেব। কিন্তু সে যখন কাজটি করে তার পছন্দের জিনিস্টি চায় তখন আমাদের কাছে জিনিসটি অযৌক্তিক মনে হলে আমরা তা কিনে দিতে অস্বীকার করি। যা মোটেও উচিৎ নয়।

এসব ক্ষেত্রে আপনার উচিৎ তাকে বলা যে তুমি কাজটি করলে আমি তোমাকে ধরে নিলাম একটা বই কিনে দিব। সে সফল হলে তাকে বই কিনে দিন। অর্থাৎ উভয়পক্ষ সন্তুষ্ট।

একবার যখন অন্যপক্ষ খুব ছোট হোক কোন আশ্বাস দেয় যা আমাদের কাছে মিথ্যা মনে হয় তখন আমাদের প্রবৃত্তি হল আমারা তখন আমাদের আচরণ এবং প্রত্যাশাগুলি সামঞ্জস্য করব এবং পরের বারে ঐ ব্যক্তির উপর নির্ভর করা শিখব এমন ভাবে যেন আমাকে হতাশ না হতে হয়।

এই ছোট ছোট হতাশাগুলোই একদিন আমাদের বিশ্বাসহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সুতরাং আপনি যদি নিজের সম্পর্কের মধ্যে আস্থা বাড়াতে চান তবে আপনার পক্ষে এমন কথা বলা বন্ধ করা জরুরি যা আপনি অনুসরণ করবেন না।

যা আপনার প্রকৃত অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব করে না তা বলা থেকে বিরত থাকুন। এমনকি ক্ষুদ্রতর মিথ্যা বলে মনে হলেও, দীর্ঘস্থায়ী হলে, অন্য ব্যক্তিকে বলবে যে তারা আপনার মুখের কথা আর বিশ্বাস করে না।

২।ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জন

বিশ্বাস জিনিসটি খুব সহজে তৈরী হয় না। আবার সব সম্পর্কে এটা প্রয়োজনও হয় না। কিন্তু যে কোন সম্পর্ক যেখানে আপনাকে অন্যের উপর নির্ভর করতে হয় সেখানে আস্থা থাকা জরুরী।

আমরা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে যে সম্পর্কগুলিতে জড়ায়, তাতে আমরা দুর্বলতার মাধ্যমেও আস্থা তৈরি করি। এর মধ্যে কিছু কিছু আমাদের প্রতিদিনের মিথস্ক্রিয়াসমূহের সাথে আসে।

যেমন- আপনি আপনার সঙ্গিনীকে কথা দিলেন যে আপনি তাকে বাসস্টপেজে নিতে যাবেন এবং সে গন্তব্যে পৌঁছে আপনাকে দেখতে পেল তবে তার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরী হবে।

মানুষ যখন একে অপরের কাছে আসে বিশ্বাস করতে শুরু করে তখন সে তার দুঃখ, লজ্জা বা দুর্বলতার কথাগুলো খুলে বলে যা হয়ত সে খুব কাছের কাউকে না হলে বলত না।

আপনি যখন আপনার সঙ্গিনীর অনেক ভীতিকর বা লজ্জার একটি অতীত জানেন কিন্তু সেটি জানার পর এবং তাকে আঘাত করার সুযোগ থাকার পরও যদি তা না করেন তবে তার আপনার প্রতি বিশ্বাস তৈরী হবে।

এমন অনেক ছোট ছোট ঘটনা আপনার সম্পর্কের ভিত মজবুত করতে অনেক বড় ভুমিকা রাখতে পারে।

৩। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা

একটি সম্পর্ক ভাঙ্গার বা বিশ্বাসে ফাটল ধরার জন্য অনেক বড় একটি নয়ামক হল সঙ্গীর প্রতি শ্রদ্ধা।

আপনি যখন আপনার সঙ্গীকে অবজ্ঞার চোখে দেখবেন, তখন আপনার সম্পর্কে বিভেদ তৈরী হবে। যে কোন সম্পর্কে অন্যের সম্মানের বিষয়টি ভেবে দেখা জরুরি।

সম্পর্ক যতই আবেগের, কাছের ও ভালোবাসার হোক না কেন সম্মানের প্রাথমিক স্তরটি বজায় রাখা জরুরী।

দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোকে সবকিছু শেয়ার করতে গিয়ে সীমা অতিক্রম করে নিজের সবচেয়ে খারাপ দিকটি দেখিয়ে ফেলি।

এর মানে এই নয় যে আপনি আপনার কাছের মানুষের সাথে ফরমাল ব্যবহার করবেন। এর মানে হল আপনার সীমা কতটুকু সেটা আপনি জানুন।

হাস্যকরভাবে, আমরা আমাদের মা বা শিশু বা সঙ্গীকে এমন উপায়ে আঘাত করতে পারি যে আমরা কখনই একটু দুরের কারও সাথে করি না – এবং আমরা ভুলে যাই যে সময়ের সাথে সাথে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে আমাদের প্রিয়জনের কাছে শ্রদ্ধা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে প্রতিবার আপনি যখন তাদের সাথে এমন আচরণ করেন যা তাদের অসম্মান করে বা সেই ন্যূনতম মর্যাদা ও সম্মানের লঙ্ঘন করে, আপনি ততবার আপনার সম্পর্ককে কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্থ করেন।

এবং সময়ের সাথে সাথে আপনাকে বিশ্বাস করা তাদের পক্ষে আরও কঠিন হয়ে যায়।

৪।বেনিফিট অফ ডাউট

সঙ্গীকে বেনিফিট অফ ডাউট দেয়া সম্পর্ক এগিয়ে নিতে খুব জরুরী। এর অর্থ হল যখন আপনার কারও সম্পর্কে ভালো বা খারাপ যে কোন একটি ভাবার সুযোগ রয়েছে আপনি তার ভালোটাকেই বিশ্বাস করুন কারণ একদম প্রকৃত সত্য আপনি জানেন না।

এটি আপনার সম্পর্কের প্রতি ইতিবাচকতা এবং ধৈর্যকে উৎসাহ দেয়। এটি আপনার সঙ্গীকে ডিফেন্সিভ মোডে ঝাঁপানো থেকে বাঁচায়।

এটি প্রমান করে যে আপনি তার প্রতি আস্থাশীল।

৫।ক্ষমাশীল হওয়া

নিজের আভ্যন্তরীণ শান্তি ফিরে পাওয়ার আগ পর্যন্ত আপনার ক্ষতি করেছে এমন ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেওয়া অসম্ভব।

অনেকে আবার অন্যকে ক্ষমা করে নিজে মনকষ্টে ভুগে থাকেন। সে ক্ষেত্রে এটা মনে রাখতে হবে যে ক্ষমা করা বা না করাটা আপনার আবেগীয় স্বাধীনতা।

তবে, ক্ষমা করতে শেখা এবং ঘটনাকে পজিটভভাবে নিতে পারলে মানসিক শান্তি পাওয়া টা অনেক সহজ হয়ে যায়।

যে কোন ঘটনাকে নিজের দিক থেকে না ভেবে অপর পক্ষের পরিস্থিতিতে নিজেকে ভেবে আপনি কি সিদ্ধান্ত নিতেন বা আপনি কিভাবে আচরণ করতেন সেটি ভাবলে অনেক সময়

মনমালিন্যের জায়গাটা কমে আসে। আবার কাউকে ক্ষমা করা আরও সহজ হয় আপনি যদি মানুষটা একজন সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখেন।

দোষ, গুণ উভয় মিলিয়েই মানুষ। যখন অপর পক্ষের প্রতি রাগ জন্ম নিবে তখন মানুষটির সাথে কাটানো ভালো সময় বা তার ভালো গুণগুলো মনে করলে ক্ষমা করাটা সহজ হয়ে যায়।

উপরের কৌশলগুলো ছাড়াও ব্যক্তিভেদে আরও অনেক কৌশল আপনি অবলম্বন করতে পারেন। মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে কোন পরামর্শের জন্য মায়াতে প্রশ্ন করুন

শেষ করব ২ জন বিখ্যাত ব্যক্তির উক্তি দিয়ে। সিদ্ধান্তটা না হয় আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম।

“বিশ্বাস অর্জন করা কঠিন, আর একবার তা ভেঙে গেলে আবার অর্জন করা আরও ১০ গুণ কঠিন”

– কেভিন এ্যালেন, উদ্যোক্তা বিষয়ক লেখক

“সত্যিকার বিশ্বাস সব সময়ে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। এর ফলাফল যদিও জাদুর মত, কিন্তু একে সময় নিয়ে গড়ে তুলতে হয়”

– ম্যাক রিচার্ড, বেস্ট সেলিং লেখক

রেফারেন্স

Vilhauer, J. V. P. D. (n.d.). How to Rebuild Trust with Someone Who Hurt You. Psychologytoday.Com. Retrieved December 10, 2020, from https://www.psychologytoday.com/us/blog/living-forward/201609/how-rebuild-trust-someone-who-hurt-you

Bonior Ph.D, A. (n.d.). 7 Ways to Build Trust in a Relationship. Https://Www.Psychologytoday.Com/Us/Blog/Friendship-20/201812/7-Ways-Build-Trust-in-Relationship. Retrieved December 10, 2020, from https://www.psychologytoday.com/us/blog/friendship-20/201812/7-ways-build-trust-in-relationship

Leave a Reply

Categories