মাইগ্রেন সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে এমন ৭ টি খাবার - মায়া

মাইগ্রেন সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে এমন ৭ টি খাবার

আর্টিক্যালটিতে যা থাকছে-

  • মাইগ্রেন কি?
  • মাইগ্রেনের উপসর্গসমূহ
  • মাইগ্রেনকে বাড়িয়ে তুলতে পারে এমন ৭ টি খাবার
  • মাইগ্রেন সমস্যার প্রতিরোধক খাবার

মাথাব্যথা তে ভুগেন নি এমন মানুষ পাওয়া বিরল। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১১% বয়স্ক মানুষ এ সমস্যায় ভুগেন এবং সমস্যাটি সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের দিকে শুরু হয়।

মাইগ্রেন কি?

মাইগ্রেন এক ধরণের মাথাব্যথা যা বারবার হয় এবং মাঝারি থেকে তীব্র মাথা ব্যথার কারণ হয়।

মাথার যেকোনো এক পাশ থেকে শুরু হয়ে অনেক সময় পুরো মাথায় ব্যথা করে। এতে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়।

মস্তিষ্কের বহিরাবরণে যে ধমনিগুলো আছে, সেগুলো মাথাব্যথার শুরুতে স্ফীত হয়ে যায়। মাথাব্যথার সঙ্গে বমি এবং বমি বমি ভাব রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে।

মাইগ্রেনের মাথাব্যথা ব্যায়াম , আলো, শব্দ এসবে আরও খারাপ হয়। ব্যথা সাধারণত ৪ ঘন্টা থেকে ৩ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

মাইগ্রেনে আপনি আলো, শব্দ এবং এমনকি গন্ধের প্রতিও সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারেন। আপনার বমি বমি ভাব কিংবা বমিও হতে পারে।

মাইগ্রেন এর উপসর্গ সমূহ

সকল মাথা ব্যথা মাইগ্রেন না । এটা মনে রাখতে হবে। মাথার ভেতরের রক্ত চলাচলের তারতম্যের কারণে এই রোগ হয়।

মাইগ্রেন হলে আপনার নিম্নোক্ত উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে-

  • মাথার একপাশ বা দুই পাশে ব্যথা
  • চোখে সমস্যা দেখা দেয়া
  • বমি বমি ভাব
  • ক্ষুধামন্দা
  • অতিরিক্ত আলো সহ্য না হওয়া
  • অতিরিক্ত শব্দ সহ্য করতে না পারা
  • হঠাৎ হঠাৎ ব্যথা বা চিন চিনে ব্যথা অনুভুত হওয়া
  • দুর্বল শরীর
  • মাথা ঘুরানো
  • কাজে মনোযোগ হারানো
  • ডায়রিয়া ( খুব কম ক্ষেত্রে)
  • জ্বর ( খুব কম ক্ষেত্রে)

মাইগ্রেনকে বাড়িয়ে তুলতে পারে এমন ৭ টি খাবার

মাইগ্রেন প্রতিরোধ করা কঠিন কারণ এর ট্রিগারগুলি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। গবেষণায় দেখা যায় যে আপনি প্রতিদিন যে খাবার খান তা হঠাৎ মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

তারপরও দেখা গিয়েছে যে বিশেষ কিছু খাবার অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ট্রিগার হিসেবে কাজ করেছে।এমন ৭ টি খাবার হল-

১। প্রক্রিয়াজাত মাংস

অনেক সময় খাবারে ব্যবহৃত জিনিস ই মাইগ্রেন এর ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম নাইট্রেট এবং নাইট্রাইটস মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে।

তাই হট ডগ, সালামি, সসেজ, বিকন এর মত খাবার বা যেসব খাবারে এগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো এড়িয়ে চলা উত্তম।

তবে এর অর্গানিক সংস্করণ বা ক্ষতিকারক উপাদানগুলো ব্যতীত কোন সংস্করণ যদি আপনি খুঁজে পান তবে সীমিত পরিমাণে খেতে পারেন।

২। পনির

অনেক সময় পুরনো পনির খেলে মাইগ্রেন এর ব্যথা শুরু হয়ে যেতে পারে। পনিরে ব্যবহৃত টায়রামাইন রক্তনালীকে প্রসারিত করে হঠাৎ মাথাব্যথা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আবার অনেকের ক্ষেত্রে দুগ্ধজাতীয় খাবার এবং প্রানীজ ক্যালসিয়াম থেকে মাইগ্রেনের ব্যথা হয়। সে ক্ষেত্রে এসব খাবারে থাকা পুষ্টিউপাদানের অভাব পুরণের জন্য আপনাকে অন্য উৎস খুঁজে বের করতে হবে।

৩। অ্যালকোহল

গবেষণায় দেখা যায় যে রেড ওয়াইন এবং বিয়ার এর মত অ্যালকোহল সেবনে মাইগ্রেন ট্রিগার হিসাবে কাজ করে।

এসব পানীয়গুলিতে প্রায়শই টাইরামাইন থাকে এবং এটি দ্রুত মাথা ব্যথা করার একটি কারণ হতে পারে।

এছাড়া, ওয়াইনে থাকা সালফাইট মাথাব্যথা কে ট্রিগার করতে পারে।তাই, মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।

৪। চকলেট

চকোলেটে থাকে বিটা-ফিনাইলিথিলামাইন যা খেলে মাইগ্রেন এর ব্যথা হতে পারে। এতে থাকা ক্যাফেইন এবং টাইরামিন আপনার মাথাব্যথা আরও খারাপ করে দিতে পারে।

আপনার যদি চকলেট খুবই পছন্দের খাবার হয় তবে কোন চকলেট কি পরিমাণে খেলে ব্যথা হয় সেটি পরীক্ষা করে আপনার জন্য উপযোগী চকলেটটি নির্বাচন করতে পারেন।

যদিও এটি এড়িয়ে চলায় বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৫। চা ও কফি

অনেক মাইগ্রেন চিকিৎসায় ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করার পরামর্শ দেয়া হয় কারণ এটি রক্তনালীগুলিকে সীমাবদ্ধ করে এবং মাথা ব্যথার ব্যথা হ্রাস করতে পারে।

তবে অত্যধিক ক্যাফেইন গ্রহণ এবং তারপরে হঠাৎ করে ছেড়ে দিলে যেমন কোন একদিন হঠাৎ সকালের চা বা কফি না খাওয়া মাইগ্রেন ব্যথা শুরু হয়ে যেতে পারে।

প্রত্যাহারের প্রতিক্রিয়ায় আপনার মাথায় প্রচুর রক্ত সঞ্চালিত হয় যা মাইগ্রেনকে ট্রিগার করতে বা আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

৬। কোক

কার্বোনেটেড ড্রিংকস বা সোডা জাতীয় খাবারে ক্যাফেইন এবং এস্পারটাম দুটো ই থাকে। অনেক সময় আমরা ডায়েট কোক খেয়ে থাকি। এতে থাকা আর্টিফিসিয়াল সুইটনার ও মাইগ্রেনের জন্য কারও কারও ক্ষেত্রে দায়ী। তাই, এ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

৭। চাইনিজ খাবার

চাইনিজ খাবার খেতে আমরা অনেকেই খুব পছন্দ করি। চাইনিজ খাবারে ব্যবহৃত মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট মাইগ্রেনের ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে অনেকের ক্ষেত্রে।

এছাড়াও বাজারে কিনতে পাওয়া যায় এমন স্যুপ, নুডুলস ইত্যাদিতেও এই উপাদান থাকে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক এবং মাইগ্রেনের ব্যথা শুরুর কারণ হতে পারে।

মাইগ্রেন সমস্যার প্রতিরোধক খাবার

  • ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার– ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ঢেকি ছাঁটা চালের ভাত ও চালের বিভিন্ন পদ ,আলু ও বার্লি মাইগ্রেন প্রতিরোধক।
  • বিভিন্ন ফল- বিভিন্ন ফল বিশেষ করে খেজুর ও ডুমুর ব্যথা উপশম করে।
  • রঙিন শাকসবজি – সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের শাকসবজি নিয়মিত খেলে উপকৃত হবেন।
  • হারবাল চা- হারবাল চা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। হারবাল চায়ের মধ্যে বেছে নিতে পারেন গ্রিন টি।
  • ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার- ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি মাইগ্রেন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তিল, আটা ও বিট ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম রয়েছে।
  • অন্যান্য- আদার টুকরো বা রস দিনে ২ বার অথবা জিঞ্চার পাউডার পানিতে মিশিয়ে খেলে তাৎক্ষণিক আরাম বোধ করতে পারেন।

বার বার মাইগ্রেনের ব্যথা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষূধ সেবন করতে হবে।

রেফারেন্স সমূহ

American Urological Association. (n.d.). nocturnal-enuresis-(bedwetting). Https://Www.Urologyhealth.Org/. Retrieved September 18, 2020, from https://www.urologyhealth.org/urologic-conditions/nocturnal-enuresis-(bedwetting)
migraines and food. (n.d.). Www.Pcrm.Org. Retrieved November 18, 2020, from https://www.pcrm.org/health-topics/migraines
D.N.A. (n.d.). Popular Topics. Maya.Com.Bd. Retrieved November 18, 2020, from https://maya.com.bd/question/788485
Migraine. (n.d.). Https://Medlineplus.Gov/. Retrieved November 18, 2020, from https://medlineplus.gov/ency/article/000709.htm

Leave a Reply

Categories